দিনাজপুরে বাণিজ্যিকভাবে জীবন্ত বড় মাছ উৎপাদনে নারী উদ্যোক্তা সুরাইয়ার সাফল্য
প্রকাশিত: ১১-৫-২০২৬ দুপুর ৪:৪১
বাণিজ্যিকভাবে জীবন্ত বড় মাছ উৎপাদনে ব্যাপক সফল্য পেয়েছেন দিনাজপুরের নারী উদ্যোক্তা সুরাইয়া আক্তার।ছোট পরিসরে শুরু করলেও বর্তমানে তিনি দেড়'শ শতাংশ জমির তিনটি পুকুরে মনোসেক্স তেলাপিয়া,মিরর কার্প, জি-থ্রী রুই, মৃগেল, কাতলা,সিলভার কার্প,গ্রাস কার্পসহ বিভিন্ন জাতের জীবন্ত বড় মাছ চাষ করছেন। তার এ উদ্যোগে তিন জনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। এছাড়াও তার সফলতায় অনুপ্রাণিত হয় অনেকেই মাছ চাষে ঝুঁকছেন।
দিনাজপুর দক্ষিণ কোতোয়ালীর উথরাইল মুরাদপুর হাজীপাড়া এলাকায় নারী উদ্যোক্তা মৎস্য খামারি সুরাইয়া আক্তার এখন অনেকের অনুপ্রেরণা। তার তিনটি পুকুরের মৎস্য খামারে বাৎসরিক আয় এখন প্রায় চারে লাখ টাকা।
দিনাজপুর দক্ষিণ কোতোয়ালীর উথরাইল মুরাদপুর হাজীপাড়া এলাকায় নারী উদ্যোক্তা মৎস্য খামারি সুরাইয়া আক্তার এখন অনেকের অনুপ্রেরণা। তার তিনটি পুকুরের মৎস্য খামারে বাৎসরিক আয় এখন প্রায় চারে লাখ টাকা।
২০২৫ সালে প্রথমে একটি পুকুরে তিনি পোনা মাছ উৎপাদন শুরু করেন। সেই মাছের পোনা বিক্রি করে শুরু করেন জীবন্ত বড় মাছ চাষ। মনোসেক্স তেলাপিয়া,জি থ্রি রুই,কাতলা, মৃগেল, সিলভারকার্প,সাদাপুটি উৎপাদন করছেন তিনি। প্রথম বছরেই তিনি সাফল্যের মুখ দেখেন। এ বছর আরো দুইটি পুকুরে মাছের চাষ বাড়িয়েছেন।
নারী উদ্যোক্তা সুরাইয়া আক্তার জানান, সংসারে কাজের ফাঁকে যে পলাতক মুহুর্তগুলোকে রয়েছে, তিনি সেই সময়কে মৎস্য খামারে লাগিয়েছেন। এখন তিনি এলাকার সফল মৎস্য খামারি। দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে তার মৎস্য খামারে আসছেন। তার খামার দেখে কেউ কেউ ঝুঁকেছেন মৎস্য চাষে। তার বাড়তি আয় সংসার পরিচালনার পাশাপাশি দুই ছেলেকে উচ্চ শিক্ষার খরচে ব্যয় হচ্ছে। তিনি তার মৎস্য খামারের পরিধি বাড়াতে চাইছেন।
মাছ চাষে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে সহযোগিতা করছেন তার স্বামী সেলিম রেজা।
মাছ চাষে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে সহযোগিতা করছেন তার স্বামী সেলিম রেজা।
সেলিম রেজা বলেন, স্ত্রী সুরাইয়াই দেখা-শোনা করেন মৎস্য খামার। সে তিনজন কর্মচারিও রেখেছে। তবে,আমিও পেশাগত কাজের ফাঁকে তাকে সহযোগিতা করি।
নারী উদ্যোক্তা সুরাইয়ার মাছ চাষের সাফল্যে এখন অনেকে মাছ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
নারী উদ্যোক্তা সুরাইয়ার মাছ চাষের সাফল্যে এখন অনেকে মাছ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
এলাকার আরেক গৃহীত লতিফা বেগম জানালেন, তিনিও পুকুরে মাছ চাষের খামার গড়তে চান। এজন্য তিনি সুরাইয়া ভাবির পরামর্শ নিতে এসেছেন।
একই কথা জানালেন,আরেক গৃহকর্ত্রী শিউলি আক্তার। তিনি বলেন,ইতোমধ্যে তিনি মাছ চাষ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তিনিও মাছের খামার গড়বেন। এজন্য পরামর্শ নিচ্ছেন সুরাইয়ার।
সুরাইয়াকে প্রথম থেকেই কারিগরি সহায়তা করে আসছে মহিলা বহুমূখী শিক্ষা কেন্দ্র-এমবিএসকে এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন।
এবিষয়ে মহিলা বহুমূখী শিক্ষা কেন্দ্র-এমবিএসকের মৎস্য বিষয়ক কর্মকর্তা মো.রায়হান আলী,জানান, সুরাইয়া আক্তারের সাফল্যের গল্প এখন বেশ আলোচিত হয়েছে। অনেকে আসছেন,তাদের কাছে সহযোগিতা ও পরামর্শ নিতে। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় তারা বহুমূখী শিক্ষা কেন্দ্র-এমবিএসকের কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছেন নারী উদ্যোক্তাদের। শুধু সুরাইয়া আক্তার নয়,দিনাজপুর জেলায় এমন কমপক্ষে অর্ধশতাধিক নারী উদ্যোক্তা মাছ চাষ করছেন। পোনা মাছ উৎপাদন থেকে শুরু করে
বাণিজ্যিক ভাবে জীবন্ত বড় মাছ উৎপাদনে উদ্যোক্তা তৈরিতে মহিলাদের দিয়ে সমিতির মাধ্যমে কাজ করছে তারা।
বাণিজ্যিক ভাবে জীবন্ত বড় মাছ উৎপাদনে উদ্যোক্তা তৈরিতে মহিলাদের দিয়ে সমিতির মাধ্যমে কাজ করছে তারা।
